এই নির্বাচন শুধু ভোটের নয়, দেশ গঠনের নির্বাচন—নীলফামারীর জনসভায় তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশ গঠনের নির্বাচন। তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ আবারও ভোট দেবেন এবং তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কিন্তু শুধু ভোট দিলেই চলবে না। আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশই মানুষের প্রথম ও শেষ ঠিকানা—এই দেশকে গড়ে তুলতেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শনিবার দুপুরে নীলফামারী শহরের বড় মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে তিনি দেশের বর্তমান বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই দেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।”
জনসভায় তারেক রহমান বেকার সমস্যা দূরীকরণকে বিএনপির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নীলফামারীতে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে এই ইপিজেডকে আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নতুন কলকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “আমরা এলাকায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবো। তারা কেউ বিদেশে গিয়ে কাজ করবে, কেউ দেশে ব্যবসা–বাণিজ্য করবে। কিন্তু বেকার হয়ে বসে থাকবে না।”
নারী ও কৃষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথাও জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে তারা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের কথা মাথায় রেখে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই সার, বীজ ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাবেন বলে জানান তারেক রহমান।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা। বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে।” তারেক রহমান বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কৃষি ও জীবনযাত্রা টেকসই হবে না।
শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাসহ ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। “আমরা শুধু কৃষির ওপর নির্ভর থাকতে চাই না। এই এলাকার মানুষের যাতে কর্মসংস্থানের সমস্যা না হয়, সে জন্য শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চাই,” বলেন তিনি। এছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।
রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, “একটি দল সমাজের বিভিন্ন মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, বিভ্রান্ত করছে।” তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে ভয় দেখানো হলে বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে বিএনপি সরকার গঠন করলে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “ইনশা আল্লাহ, কারও সঙ্গে অন্যায় হলে আমরা চুপ থাকব না,” বলেন তিনি।
এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ (রুবেল)-এর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে নীলফামারীর চারটি আসনের বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
এর আগে শনিবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নীলফামারী জেলা শহরে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারম্যান। তার এই সফর ও বক্তব্য উত্তরাঞ্চলে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
