মাধ্যমিক পাস বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতা ঘোষণা, ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পে মিলবে ১,৫০০ টাকা
পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক পাস করা বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। রাজ্য বাজেট পেশের সময় জানানো হয়েছে, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ অথচ চাকরিহীন যুবকদের আর্থিক সহায়তা দিতে নতুন একটি প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলার যুবসাথী’। এর আওতায় যোগ্য যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট বক্তৃতায় জানান, এই প্রকল্প মূলত সেই সব যুবক-যুবতীদের জন্য, যারা মাধ্যমিক পাস করার পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি। নতুন প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক উত্তীর্ণ যুবক-যুবতীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। আগামী ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেট নথি অনুযায়ী, একজন যুবক বা যুবতী সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই সময়ের মধ্যে কেউ চাকরি পেয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ভাতা স্থায়ী আয়ের বিকল্প নয়, বরং চাকরি পাওয়ার আগের সময়টায় আর্থিক সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যারা উচ্চশিক্ষার জন্য রাজ্য সরকার অথবা অন্য কোনও সংস্থার স্কলারশিপ পাচ্ছেন, তারাও এই ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের খোঁজ চালিয়ে যাওয়া যুবক-যুবতীদের জন্য এই প্রকল্প কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবশ্রী’ নামে একটি প্রকল্প চালু রয়েছে। ওই প্রকল্পে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ এবং ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলেই এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম নথিভুক্ত করা যায়। যুবশ্রী প্রকল্পে মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়, যা চাকরি পেলে বা বয়স ৪৫ বছর অতিক্রম করলে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পটি মূলত যুবশ্রীর আদলেই তৈরি হলেও, এতে বিশেষভাবে মাধ্যমিক পাস যুবকদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তার আগে এটিই বর্তমান রাজ্য সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এই বাজেটে বেকার যুবক-যুবতী, মহিলা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতাও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করার ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজ্যের জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। আগে সাধারণ শ্রেণির নারীরা মাসে ১,০০০ টাকা করে পেতেন, নতুন ঘোষণায় তা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। তফসিলি জাতি, জনজাতি ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের নারীদের ক্ষেত্রে এই ভাতা বাড়িয়ে ১,৭০০ টাকা করা হয়েছে, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হবে।
সব মিলিয়ে, নতুন ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বেকার যুবসমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। যদিও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ধারণ ও আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। তবে রাজ্য সরকারের এই ঘোষণা আসন্ন সময়ে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার যুবক-যুবতীর জীবনে কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
